ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময়ী নারী ক্লিওপেট্রা ছিলেন মিশরের টলেমিক সাম্রাজ্যের শেষ সক্রিয় শাসক। মাত্র ৩৯ বছরের জীবনকালে তিনি একের পর এক নাটকীয় ও রহস্যময় ঘটনার সৃষ্টি করেছেন, যে কারনে এখনো ইতিহসের পাতায় অম্লান হয়ে আছে তার নাম। তিনি সেসময় নারী হয়ে যেসব ঘটনার সৃষ্টি করেছিলেন তা সে যুগের আধিকাংশ পুরুষের পক্ষেও ছিল প্রায় অসম্ভব। মিসরের রানী ছিলেন তিনি। অথচ তার দেহে খাঁটি মিসরীয় রক্ত ছিল না। তা সত্বেও তিনি মিসর এবং মিসরীয়দের ভালোবাসতেন। তাদের উন্নয়নের জন্য অনেক কাজ করেছেন। চাষাবাদের সুবিধার জন্য নীল নদ থেকে খাল কেটে আলেক্সান্দ্রিয়ার ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। মিসরের ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন।
প্রাণবন্ত এই রাজকুমারী সহজেই সবার সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন। মিসরীয়সহ তিনি মোট ৯টি ভাষা জানতেন। গণিতবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবেও তার সুনাম ছিল। রাজনৈতিক কারণে তিনি নিজেকে সূর্যদেবতা ‘রা’-এর বংশধর হিসেবে প্রচার করতেন এবং দেবী আইসিসের শিরোস্ত্রাণ পরতেন। সাহিত্য ও দর্শনে তার প্রবল অনুরাগ ছিল। তার চূড়ান্ত অভিলাষ ছিল রোমের আওতার বাইরে থেকে প্রথম টলেমি প্রতিষ্ঠিত পুরো এলাকার রাজক্ষমতা লাভ করা। তাই তাকে বলা যায়, রোম সাম্রাজ্য বিস্তারের একটি বাধা হিসেবে। সাম্রাজ্যবাদী রোমানরা তখন ক্লিওপেট্রাকে খলনায়িকা হিসেবেই পরিচিত করতে চেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা এখনো রয়ে গেছে। যত দিন তার নামটি টিকে থাকবে, তত দিন এই রূপান্তরও চলতে থাকবে। আর এত কিছুর মধ্যে তার জীবনের সত্যিকারের ঘটনাপ্রবাহে অনেকাংশেই বিকৃতি ঘটেছে। সেই বিকৃতির থেকে তাকে মুক্তি দিতে হবে l তার যোগ্য মূল্য দেবার চেষ্টা করেই যেতে হবে l আমরা জানি অক্টাভিয়ান তার বিজয়ের পর যাতে শুধু রোমানদের লেখা ইতিহাসই টিকে থাকে সে জন্য মিসরের প্রায় দুই হাজার নথিপত্র পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ কারণেও প্রকৃত ইতিহাস অনেকাংশেই পাওয়া যায় না।সে সত্য খুঁজে বের করতেই হবে l
Stay Curious SIS
Siddiqui's International School
