"আগন্তক" মেয়েটাকে বিছানায় বসিয়ে স্ত্রী পরম যত্নে দুধ ভাত কলা দিয়ে মেখে মেয়েটাকে খাইয়ে দিলো।লক্ষ্য করলাম মমতায় ওর চোখ ছলছল করে উঠছে।

 বউয়ের সাথে ঝগড়া করে মাঝরাতে রাস্তায়।বাচ্চা মেয়ের কান্নার শব্দ।ফুটপাতে বালতিতে ফুল নিয়ে বসে আছে একটা মেয়ে।



কাছে গেলাম।বললাম " কাঁদো কেনো? "


" ফুল বিক্রি হয়নি।খাইনি সারাদিন "


মেয়েটাকে দেখে ভিষণ মায়া হলো।বললাম " ফুলগুলো আমায় দাও,কত দিবো? "


" ২০০ টাকা "


ফুলগুলো কিনলাম।টাকা হাতে পেয়ে মেয়েটার মুখের বিষণ্ণ কিছুটা কমলো।বললাম 


" এতোরাতে তো দোকান ও খোলা নাই,আমার সাথে চলো,খেয়ে বাড়ি যেও "


মেয়েটা আমার হাত ধরে হাঁটতে লাগলো।৬ বছরের নিঃসন্তান আমি নিজেকে বাবারুপে অনুভব করলাম।মেয়েটার হাত ধরে বাড়ি ফিরলাম।কলিং বেল চাপতেই স্ত্রী দরজা খুললো,চোখে জল।বললাম 


" কাঁদছো? "


স্ত্রী জ"ড়িয়ে ধরে বললো " একটু কথা কাটাকাটি হলেই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয় বুঝি?আমার একা ভয় লাগে বুঝো না? "


গোলাপ এগিয়ে দিলাম।স্ত্রী ঠোঁ"ট ফুলিয়ে বললো " লাগবে না, ভাগো "


" আর এমন হবে না,রাগ করেনা রাগী মেয়ে।চোখের জল মুছো, অতিথি নিয়ে এসছি "


স্ত্রী ভ্রু কুঁচকে আমার পেছনে লুকিয়ে থাকা মেয়ে বাচ্চাটাকে দেখে বললো " এতোরাতে একে কোথায় পেলে? "


" রাস্তায় বসে কাঁদছিলো।সারাদিন খায়নি,খেতে দাও "


স্ত্রী ব্যস্ত হয়ে মেয়েটাকে নিয়ে রান্নাঘরে গেলো।একটু পর ফিরে এসে বললো " দুধ আছে,তুমি রহমত কাকার দোকান থেকে কলা নিয়ে আসো। উনি তো দোকানেই ঘুমায়,ডাকলে উঠবে "


রহমত কাকার ঘুম ভাঙ্গিয়ে কলা কিনে বাসায় এসে আমি রীতিমতো হতভম্ব।ধুলোয় ভরা মেয়েটার শরীর ফুটফুটে হয়ে আছে।কপালে কাজলের ছোঁয়া।পরনে আমার নতুন একটা টি-শার্ট।চুল আলোয় চিকচিক করছে।বললাম 


" এতোরাতে স্নান করালে নাকি? "


" হু।গা ভর্তি ধুলো নিয়ে খেলে সে খাওয়া গায়ে লাগে নাকি? "


মেয়েটাকে বিছানায় বসিয়ে স্ত্রী পরম যত্নে দুধ ভাত কলা দিয়ে মেখে মেয়েটাকে খাইয়ে দিলো।লক্ষ্য করলাম মমতায় ওর চোখ ছলছল করে উঠছে।


খাওয়া শেষে স্ত্রী বললো " মেয়েটা কি মায়াবী তাই না? ওকে আমাদের সাথে রেখে দিই? "


" কি বলো! চিনি না জানিনা রেখে দিবো? "


" ওর পরিবার কেই নেই।ফুটপাতেই ঘুমায়।প্লিজ,রেখে দিই না!আমার ওকে ভিষণ মনে ধরেছে "


" বেশ,রেখে দাও "


মেয়েটা এরপর থেকে আমাদের সাথেই থাকতে শুরু করলো।বলা বাহুল্য, স্ত্রী তার নিজের মা হয়ে উঠলো।বাচ্চাটা ওকে মা বলে ডাকে,আমায় মাঝেমধ্যে লজ্জায় কুঁকড়ে গিয়ে বাবা ডাকে।


কে'টে গেলো ১৭ বছর।ওর বিয়ের আয়োজন চলছে।ছেলেপক্ষ্য দেখে গেছে।রাতে মেয়েটা আমায় জ"ড়িয়ে ধরে সে কি কান্না! তার একটাই কথা, 


" আমি বিয়ে করবো না।তোমাদের ছাড়া থাকবো কি করে?বিয়ে দিতে হলে তোমাকে আর মাকেও আমার সাথে যেতে হবে "


মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম " বোকা মেয়ে "।কিছুদিন পর মেয়েটা চলে গেলো।স্ত্রী সারাক্ষণই কাঁদে,আমিও লুকিয়ে ছাঁদে গিয়ে কাদি।মেয়েটা নিজের মেয়ে হয়ে ছিলো এতদিন।ওকে ছাড়া বাড়িটা নিস্তব্ধ শ্মশান হয়ে পড়ে রইলো।


গল্প #আগন্তুক 

লেখক #জয়ন্ত_কুমার_জয় 


সামাজিক রোমান্টিক গল্প পেতে পেজটা ফলো করে রাখতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.